বিয়ে মানে শুধু দুজনের মিলন নয় , দুটো আত্মারও মিলন যা সাত জন্মের জন্য হয়ে থাকে , আর এই সাত জন্মের প্রতিজ্ঞাকে আরো বেশি মজবুত করতেই বিয়ের সময় সাত পাক ঘোড়ার নিয়ম রয়েছে। অগ্নিসাক্ষী করে বর ও কোনে সাত পাকে ঘুরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে সুখে দুঃখে সময়ে অসময়ে ভালো মন্দে সবসময়ে তারা একে অন্যের সাথে থাকবেন , কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবন অতিবাহিত করবেন , হিন্দু বিয়েতে সাত পাক ঘোড়ার সময় অনেক মন্ত্র পড়া হয় , বর ও কোনে পুরোহিতমশাই এর বলা মন্ত্র অনেকসময় না বুঝেই শুধু উচ্চারণ করে যান , কিন্তু প্রতি মন্ত্রেরই এক একটি অর্থ রয়েছে যা বিবাহিত জীবনে প্রতি পদক্ষেপে কাজে লাগে,

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সাত পাকের মাহাত্ম্য –

প্রথম পাক: পবিত্র অগ্নির সামনে দাঁড়িয়ে বর কনেকে কথা দেন বিয়ের দিন থেকে কনের ভরণ পোষণের দায়িত্ব তার , উত্তরে কোনে প্রতিজ্ঞা করেন যে সংসারের সুখের জন্য খুঁটিনাটি বিষয়ও তিনি নজরে রাখবেন।

দ্বিতীয় পাক :বর ও কোনে একে অন্যকে প্রতিজ্ঞা করেন যে তারা জীবনেও সব ওঠা পড়ায় তারা একে অন্যের সাথে থাকবেন , যেকোনো বিপদ এ দুজন দুজনের পশে থেকে দুজনকে রক্ষা করবেন এই কথা দেন ।

তৃতীয় পাকঃবর ও কোনে একে ওপরের পার্থিব সুখের দিকে নজর দেবেন এই প্রতিজ্ঞা করেন , একইসঙ্গে আধ্যাতিক পথেও হাঁটবেন সেই কথা দেন।

চতুর্থ পাকঃ বর কনেকে কথা দেন সর্বাঙ্গে তিনি তার স্ত্রী এর সন্মান রক্ষা করবেন , স্ত্রী ও কথা দেন তিনি আজীবন তার স্বামীকে একইভাবে ভালোবাসবেন।

পঞ্চম পাকঃ বর ও কোনে একসঙ্গে প্রার্থনা করেন যাতে তারা তাদের সংসার আনন্দ ও সমৃদ্ধিতে পূর্ণ করে রাখতে পারেন , দুজন দুজনের সব থেকে কাছের বন্ধু হওয়ার অঙ্গীকার করেন।

ষষ্ঠ পাকঃ সারাজীবন একে ওপরের সঙ্গে থাকবেন এই প্রতিজ্ঞা করেন।

সপ্তম পাকঃ

এই শেষ পাকে  বর বলেন এখন থেকে আমরা স্বামী স্ত্রী হলাম , এখন থেকে আমরা এক, কোনেও তাতে সহমত দেন ৷

আর বুঝতে হয়তো অসুবিধা নেই, কতটা গুরুত্ব বহন করে বিয়ের সাতটি পাক৷ নিজেও জানুন এবং সকলকে জানতে সাহায্য করুন এই বিষয়টি ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here