Home রূপ চর্চা ত্বকের অবাঞ্চিত লোম দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি

ত্বকের অবাঞ্চিত লোম দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি

120

অনেক মহিলার মুখে বিশেষ করে ঠোঁটের ওপরে লোম দেখা যায়, যা মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে। মেকআপ করলেও ঢাকা পড়ে না ফেসিয়াল হেয়ার। সাধারণত হরমোন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ঠোঁটের উপরে লোম দেখা দেয়। বিভিন্ন হেয়ার রিমুভাল ক্রিম, বিউটি ট্রিটমেন্ট, ফেসিয়াল করা হয় এই লোম দূর করার জন্য।

পার্লার থেকে লোম দূর করে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার লোম বেরিয়ে যায়। আবার অনেক প্রোডাক্টের পার্শপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই অনেকে ভয় পান বাজারে প্রচলতি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে। তাদের জন্য রইল ঘরোয়া কিছু উপায়, যেগুলো কম ব্যয়বহুল এবং নিরাপদও।

এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে আপনি ফেসিয়াল হেয়ার দূর করতে পারেন।

১) চিনি ও লেবুর রস: দুই টেবিল চামচ চিনি ও লেবুর রস এবং ৮-৯ টেবিল চামচ পানি নিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার সেটাকে গরম করুন যতক্ষণ না বাবলস বেরোচ্ছে। তারপর মিশ্রণটা ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে ঠোঁটের ওপরে লাগান। ২০-২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা পানি দিয়ে। লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। গরম চিনি ঠোঁটের ওপরের লোমের সঙ্গে লেগে যায়, যা লোমগুলোকে তুলতে সাহায্য করে।

২) মধু ও লেবুর রস: দুই টেবিল চামচ চিনি ও লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে গরম করুন। তিন মিনিট মতো গরম করে তারপর জল মেশান। মিশ্রণটা পাতলা হয়ে গেলে ঠান্ডা হতে দিন। প্রথমে ঠোঁটের ওপরে কর্নস্টার্চ লাগিয়ে নিন, তারপর মিশ্রণটা লাগান। ওয়াক্সিং স্ট্রিপ বা কটনের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। যে ডিরেকশনে আপনার হেয়ার গ্রোথ হয়েছে সেই ডিরেকশনে মিশ্রণটা লাগাতে হবে, আর মোছার সময় উল্টো ডিরেকশনে মুছতে হবে।

৩) ওটমিল এবং কলা: ২ টেবিল চামচ ওটমিল গুঁড়োর সঙ্গে একটা পাকা কলা মিশিয়ে নিন ভালো করে। এই পেস্টটা ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লোম দূর করার সাথে সাথে আপনার স্কিনে ঔজ্বল্য আনবে এই প্যাক। ব্ল্যাকহেডসের সমস্যায় ভুগছেন? দেখুন ব্ল্যাকহেডস দূর করার ঘরোয়া উপায়

৪) ডিম ও কর্নস্টার্চ: ১ টেবিল চামচ কর্নস্টার্চ ও চিনির সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মেশান। যে জায়গার লোম দূর করতে চাইছেন সেখানে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

৫) হলুদ ও দুধ: ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ দুধ মেশান। মিশ্রণটা ঠোঁটের ওপর লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। অবাঞ্চিত লোম দূর করতে দারুন কাজ করে এই মিশ্রণটি।

উপরের কোনও প্যাক ব্যবহারের আগে একবার স্কিন টেস্ট করে নিতে পারেন। তাহলে আপনি জানতে পারবেন যে, প্যাকটি আপনার স্কিনে শুট করবে কিনা। স্কিন টেস্ট করার জন্য অল্প পরিমাণ পেস্ট বানিয়ে কান বা হাতের ভেতরের দিকে লাগিয়ে রাখুন। নির্দিষ্ট সময় রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্যাক লাগানোর পর যদি আপনার ত্বক লাল হয় বা সামান্য চুলকোয়, তাহলে বুঝবেন লোম দূর করার এই প্রতিকার আপনার স্কিনের জন্য উপযুক্ত নয়।