সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর দেশে এ নিয়ে দেখা দেয় বড় ধরনের সংকট। ৩০ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার পাকিস্তান থেকে ৮২ মেট্রিক টন ও মিসর থেকে ৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশে।

মিসর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসছে- এমন খবরের পর মিসরিয় পেঁয়াজ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো মাটির নিচে নয়; বরং গাছের ডগায় হয় এই পেঁয়াজ। এ সম্পর্কিত সংবাদও ইতোমধ্যে মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। মিসরিয় এই জাতের একেকটি গাছের ডগায় ৫-৭টি পেঁয়াজ ধরে। এই সংবাদের পর অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এ ধরনের পেঁয়াজ বাংলাদেশে চাষ করা যায় কিনা- সেটা ভেবে দেখা উচিত। এই পেঁয়াজ চাষ করা গেলে একই জমিতে কয়েকগুন বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব হবে।

এরমধ্যে মিসরিয় এই জাতের পেঁয়াজ সম্পর্কে আরও একটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে- পেঁয়াজের এই জাতটির আদিভূমি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ। ইতিহাসের বর্ণনা মতে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ভারতের উত্তরাঞ্চল থেকে ‘রোমানি’ নামের একটি জনগোষ্ঠি আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু দেশে চলে যায়। সে সময় তারা ভারতবর্ষ থেকে অন্য অনেক কিছুর মতো পেঁয়াজের এই জাতটিও নিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৮৫০ সালে ইউরোপ থেকে মিসরিয় পেঁয়াজের এই জাতটি যুক্তরাষ্ট্রেও নেয়া হয়। ওই গবেষণায় বলা হয়, ‘রোমানি’ সম্প্রদায়ের বাস ছিল মূলত পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও ভারতের রাজস্থান এবং হরিয়ানাতে। তারাই এই জাতের পেঁয়াজ ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় নিয়ে গিয়েছিল। ওই পেঁয়াজই বর্তমানে ‘মিসরীয় পেঁয়াজ’ নামে পরিচিত।

তবে আরও নাম আছে এই পেঁয়াজের। ‘ট্রি অনিয়ন’, ‘টপসেটিং অনিয়ন’, ‘ওয়াকিং অনিয়ন’ নামেও পরিচিত এই জাতের পেঁয়াজ। এই পেঁয়াজের আরও একটি সুবিধাজনক দিক রয়েছে। আমাদের দেশে প্রচলিত পেঁয়াজ বছরে একবার ফলন দেয়, কিন্তু মিসরিয় এই পেঁয়াজ বছরে ফলন দেয় দুইবার।

এছাড়া যেকোনও পরিবেশেই এই পেঁয়াজ চাষ করা যায়। ঠাণ্ডা, গরম এবং কম উর্বর মাটিতেও মিসরিয় পেঁয়াজ চাষ করা যায়। তাছাড়া পোকার আক্রমণেও এর কোনও ক্ষতি হয় না। এমনকি তুষারপাতেও এই পেঁয়াজ জন্মানো যায়। সবদিক বিবেচনায় এই পেঁয়াজ চাষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার সময় এসেছে বাংলাদেশের কৃষি গবেষকদের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *